ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জনের মৃত্যু

responsive

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

ভারতের যে কোম্পানিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদান হচ্ছে, সেই সেরাম ইনস্টিউটের একটি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ভবনের ভেতরে আরো লোকজন আটকে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে পুনেতে সেরাম ইনস্টিউটের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১৫টি ইঞ্জিন তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ কথা জানানো হয়। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম। প্রতিষ্ঠানটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনার টিকা ‘কোভিশিল্ড’ নামে উৎপাদন করছে। আগুনে টিকা উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানানো হয়েছে।

সেরাম ইনস্টিউটের সিইও আদর পূনাওয়ালা বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে এ অগ্নিকাণ্ডের কোনো প্রভাব পড়বে না।

রয়টার্স লিখেছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার ৫ কোটি ডোজ সেখানে প্রতি মাসে উৎপাদন করা হচ্ছে, যার দিকে তাকিয়ে আছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু দেশ।

বাংলাদেশ সেরাম ইনস্টিউটের কাছ থেকেই তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে, যার প্রথম চালান ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা। ভারত সরকার উপহার হিসেবে বৃহস্পতিবার যে ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে, তাও সেরাম ইনস্টিউটেরই টিকা। আনন্দবাজার জানিয়েছে, ইনস্টিটিউটের ১ নম্বর টার্মিনালের গেটের পাশে নির্মাণাধীন একটি টিকা উৎপাদন প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সেখানে উৎপাদন শুরু না হলেও প্রস্তুতি চলছিল।

ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দূর থেকেও সেখানে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ভবনটি থেকে নয়জনকে উদ্ধার করেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুনের মেয়র মুরলিধর মহলের বরাত দিয়ে পাঁচজন কর্মীর মৃত্যুর খবর জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ইনস্টিটিউটের যে জায়গায় করোনাভাইরাসের টিকা কোভিশিল্ডের উৎপাদন চলছে, সেখান থেকে ঘটনাস্থল কয়েক মিনিটের গাড়িদূরত্বে অবস্থিত। তবে কীভাবে ওই ভবনে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কারও কারও ধারণা, নির্মাণ কাজের সময়ই কোনোভাবে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

ভবিষ্যতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটের ওই সাইটে অন্তত আটটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে টিকা তৈরির পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

আদর পুনেওয়ালার বাবা সাইরাজ পুনেওয়ালা ১৯৬৬ সালে সেরাম ইনস্টিটিউট গড়ে তোলেন। পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের বৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বলা হয় সেরামকে। গড়ে প্রতি বছর ১৫০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন করে এই প্রতিষ্ঠান। বিপুল পরিমাণ করোনার টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে তারা। অক্সফোর্ডের টিকা ছাড়াও ওষুধ প্রস্তুতকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান নোভাভ্যাক্সের করোনার টিকাও উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে সেরাম। সেরাম ইনস্টিটিউট পোলিও, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি, হাম ও রুবেলার টিকাও উৎপাদন করে, যা রপ্তানি হয় বিশ্বের ১৭০টি দেশে।

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন