সুনামগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্ঠা: ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

responsive

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে একাদশ শ্রেণীতে পড়–য়া এক কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং করার অভিযোগ উঠেছে। আর এই ইভটিজিং হতে চিরতরে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী বেঁচে নিয়ে ছিলেন আত্মহত্যার পথ। পান করে ছিলেন টয়লেট পরিস্কার করার হারপিক। এর ফলে ওই কলেজ ছাত্রী মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়লে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর অসহায় মা। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ধর্মপাশা উপজেলায়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়- ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে অনিক মিয়া(২০) ও ধর্মপাশা নতুন পাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে তুরাগ আলী (১৯),ইফনুছ আলীর ছেলে রিফাত মিয়া(১৮) একত্রিত হয়ে দীর্ঘদিন যাবত পাশর্^বর্তী ধর্মপাশা গ্রামের আব্দুল আলিমের একাদশ শ্রেণীতে পড়–য়া কলেজ ছাত্রী (১৮) কে কলেজ ও প্রাইভেট পড়তে আসা-যাওয়ার পথে উত্যক্ত করছে। এঘটনাটি জানতে পেরে ওই কলেজ ছাত্রীর মা উপরের উল্লেখিত ৩বকাটে যুবককে ডেকে এনে অনেক বার অনুরোধ করেছেন। তার মেয়েকে যেন আর বিরক্ত না করে। তারপরও ক্ষান্ত হয়নি তারা। প্রতিদিনে মতো গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে ওই কলেজ ছাত্রীকে রাস্তায় একা পেয়ে ৩ বকাটে খারাপ প্রস্তাব দেয়। তখন ভয়ে ওই কলেজ ছাত্রী চিৎকার শুরু করে। এসময় আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে ৩ বকাটে পালিয়ে যায়। এঘটনার পর ওই কলেজ ছাত্রী প্রাইভেট না পড়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। আর টয়লেটের ভিতরে গিয়ে হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে ওই কলেজ ছাত্রীকে তার পরিবারের লোকজন দ্রæত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তারপর কর্তব্যরত চিকিৎসক কলেজ ছাত্রীর অবস্থা আশংকা জনক দেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এরপর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ্য হয়। তাই গত রবিবার দুপুরে বাবা- মাকে নিয়ে কলেজ ছাত্রী তার নিজবাড়িতে চলে আসে। এবং ৩ বকাটে যুবকের শাস্তি দাবী করে গত সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রীর মা। এব্যাপারে কলেজ ছাত্রীর মায়ের চাচাতো ভাই আকাশ চৌধুরী ও সরকারী এম্বুলেন্স চালক আমিরুল ইসলাম বলেন- ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আশংকাজনক অবস্থায় কলেজ ছাত্রীকে আমরাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে জানতে পেরেছি গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইউএনও স্যারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুনতাসির হাসান আজ ১৩ই জানুয়ারী বুধবার দুপুর ২টায় এই প্রতিবেদককে বলেন- কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং করার বিষয় নিয়ে যে লিখিত অভিযোগ আমার কাছে দেওয়া হয়েছিল তা গতকাল ১২ই জানুয়ারী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেরত নিয়ে গেছে কলেজ ছাত্রীর পক্ষ থেকে। এই বিষয়টি নিয়ে আমার অফিসে কোন সালিশ বা কোন সমাধান হয়নি। এব্যাপারে ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন- কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং করার বিষয় নিয়ে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন