রাজনৈতিক সহকর্মীকে নিয়ে একজন নেতার স্মৃতিচারণ, আব্দুন নূর মাষ্টার আমাদের মাঝে আর নেই এমন অপ্রিয় সত্যটা মেনে নিতে বুকে কষ্ট অনুভব করেছি

responsive

উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি ||
আব্দুন নূর মাষ্টার! নূর মাস্টার নামেই বহুল পরিচিত আলোচিত সমালোচিত ও প্রসংসিত। আমার সহকর্মি বন্দুবর আব্দুন নূর মাষ্টার আমাদের মাঝে আর এই এমন অপ্রিয় সত্যটা মেনে নিতে বুকে কষ্ট অনুভব করেছি। সেই দিন ফোনে রিং হচ্ছিল, ঘুম থেকে উঠে ফোন ধরে হ্যালো বলতেই নূর মাস্টারের বড় পুত্র নজরুল ইসলাম লন্ডন থেকে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে আমাকে বললেন, স্যার We lost our father (আমরা আমাদের বাবাকে হারিয়েছি) এই খবর শুনার পর অনেকটা হতবম্ব হয়ে পড়েছিলাম। আমার শরীরটা কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিল। আমি নজরুলকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কি হয়েছিল? সে কিছুই বলতে পারে নাই, বলল আব্বা হটাৎ করে অসুস্ত হয়ে পড়েন ২৫ সে অগাস্ট ২০২০ ইং রাত ১১.৩০ ঘটিকায় আকর্ষিক ভাবে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। 
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে বসে পড়লাম।

 নূর মাষ্টারের স্মৃতি মনে দোলা দিচ্ছে। এলাকা থেকে ফোন আসছে। আমার মনে পড়ে আমি তখন কমলগঞ্জ গণ-মহাবিদ্যালয়ে উপাধ্যক্ষ। তখন পতন উষার ইউনিয়নে ঘন ঘন বন্যা হত। মনু ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্রতি বছর এই অঞ্চলকে প্লাবিত করতো। আমি নূর মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করে পতন ঊষারে নৌকা নিয়ে আসতাম। মুন্সিবাজার থেকে রূপসপুর হয়ে পতন উষার কেউলার হাওর ঘেঁষে আমরা পতন ঊষার বাজারে গিয়ে দেখতাম বাজারে হাটু পানি। সারা ইউনিয়ন ঘুরে ঘুরে আমরা মানুষের খোঁজ খবর রাখতাম। ঐ এলাকার অনেকেই  আমাদের মাঝে নেই। নূর মাস্টার সবাইকে উৎসাহিত করতেন, বলতেন প্রফেসর সাব আসছেন। পতন ঊষার ইউনিয়নের বৃহত্তর বৃন্দাবনপুর করাইয়া হাওয়রের উজান পর্যন্ত নূর মাস্টারের নেতৃত্বে আমরা কাজ করেছি। 

সেই সময়ে আমি নূর মাস্টারকে নিয়ে গ্রামগঞ্জে কাজ করেছি যা স্মৃতিপটে। এক রামাদ্বান মাসে বন্যা হয়েছিল। মনে পড়ছে পিচ্ছিল রাস্তায় আমি নূর মাষ্টার কাঁদায় পড়ে গিয়েও কাজ করেছি। আমাদের সাথে আমাদের দল আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ আরো অনেকেই থাকতেন। সবাইকে জড়ো করে নুর মাস্টার বুঝাতেন, বক্তব্য রাখতেন, বলতেন "আসুন আমরা সবাই মিলে একে অন্যে সহযোগিতার হাত বাড়াই, মানুষের পাশে দাঁড়াই।

 মনে পড়ছে নূর মাস্টারের হাতে ছাতা, পরনে সাদা পাঞ্জাবি -আমি রসিকতা করে বলেছি মাস্টার সাহেব আপনাকে দেখতে মনে হচ্ছে গ্রাম্য জনপদের এক মোড়ল। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তিনি একজন সফল ব্যক্তি, একজন সফল পিতা। মানুষকে আপন করার এক যাদুকরী ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন আব্দুর নূর মাষ্টার। যেখানেই যে অবস্থায় যার কাছেই গেছেন তাঁকেই আপন করেছেন। হয়ে উঠেছেন ঐসব লোকেদের পরমাত্মীয়। হিংসা লোভ আর ক্ষমতার মোহ কোন দিনও তাঁকে গ্রাস করতে পারেনি। একজন নিঃস্বার্থ ও নীতিবান সমাজকর্মী হিসাবে নূর মাষ্টার ধর্ম বর্ন আর রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মানুষের সেবা করে গিয়েছেন আমৃত্য।

ব্যক্তি পারিবারিক জীবনে আব্দুন নূর মাস্টার একজন সফল স্বার্থক ব্যক্তি। ৪ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জনক। বড় ছেলে নজরুল ইসলাম দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত রয়েল মার্সডেন ক্যান্সার রিসার্স হসপিটালে সিনিয়র ইন্সিডেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। আমি লন্ডনে নজরুলের হাসপাতাল ভিজিট করেছি। একটি বিশ্ব বিখ্যাত কেন্সার স্পেশালিস্ট হসপিটালে সে কাজ করছে। তাঁর হাসপাতালে ফ্রন্ট ডেস্ক সেদিন আমাকে অভ্যর্থনা জানায়। নজরুলের কলিগ ভদ্রমহিলা লীন তাঁদের সেবা ও কার্য্ক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। একটি সুবিনিয়র আমার হাতে তারা তুলে দেয়। কেন্সার রোগীদের কল্যানে ফান্ড রেইজ ডেস্কে একটু সাহায্য ও করেছিলাম মনে পড়ছে। তাঁর ২য় ছেলে রিপন ইসলাম ময়নুল কমিনিটি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তাদের পারিবারিক ট্রাষ্ট "আব্দুন নুর নুরজাহান চৌধুরী কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি। সে ২নং পতন উষার ইউপি'র কাউন্সিলর, আমাদের দলের স্থানীয় ইউনিট পতন উষার ইউপি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। নুর মাস্টারের ৩য় ছেলে স্নেহাপদ নাজমুল ইসলাম ইমন যুক্তরাজ্যের সান্দারল্যান্ড ইউনিভাসিটি থেকে BA (Hons) International Tourism and Hospitality Management উপর উচ্চতর ডিগ্রী করেছে। ইমন যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কমিনিটি কাজের সাথে সম্পৃক্ত। সে কাজ করছে "মোবিলাইজেশন সার্ভিস ম্যানেজার (নন ক্লিনিক্যাল) দ্য ডিপার্টমেন্ট ওফ হেল্থ কেয়ার ফ্যাসিলিটি - লুইসাম এন্ড  গ্রীনিস NHS ট্রাস্ট যুক্তরাজ্যে। কনিষ্ট ছেলে ডাঃ কামরুল ইসলাম শিপু MBBS নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিপার্টমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলজির লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছে। At the same time ডাঃ শিপু IT advisor for North East Medical college , ডাঃ শিপু মেডিকেলে ছাত্রাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যা এ -টু আই প্রকল্পের “বেস্ট ইনোভেটিভ আইডিয়া” প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরষ্কার পেয়েছিল। বর্তমানে ডঃ শিপু যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরা থেকে “মাস্টার্স ইন্ ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিস” ডিগ্রিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন। মেয়ে শান্ত ইসলাম সিলেটে the স্কলার হোম ইন্টারন্যাশনাল সিলেট পড়া শুনা করেছে, বর্তমানে সে যুক্তরাজ্যে বাস করছেন। আব্দুন নূর মাস্টারের পুত্রবধু ডাঃ তাহানি আল চৌধুরী MBBS নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিপার্টমেন্ট অব এনাটমির লেকচারার। নূর মাষ্টারের ছেলে মেয়েরা সব সময় তাঁদের সাফল্য,ভাল কাজ আমাকে জানায়, আমি তাঁদের উৎসাহিত করি। 
 
 আজ নূর মাস্টার আমাদের মাঝে নেই। তিনি এই পতন উষার ইউনিয়ন এলাকায় বিদ্যুৎ নেই , রাস্তা নেই,  পাকা রাস্তা নেই , লাঘাটা নদীর উপর ব্রীজ নেই ,পতন উষার বাজারে ব্যাংক নেই। আমি এমপি হবার পর থেকেই এই সব দাবি দাওয়া নিয়ে আমার উপর তার অনেক চাপ ছিল। এবং তার চাপের কারণে ও এলাকার বাসীর দাবির প্রেক্ষিতে আমি সব করে দিয়েছি। নূর মাস্টার পতন ঊষার উচ্চ বিদ্যালয়ের হাই আজীবন দাতা সদস্য। এই শিক্ষা প্রতিষ্টানের সামগ্রিক উন্নয়নে নূর মাস্টার, ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবুর নেতৃত্বে ও এলাকার সকল স্তরের মানুষের দাবীর মুখে আমি পতন ঊষার হাই স্কুলে একের পর এক দৃশ্যমান উন্নয়ন করে দিয়েছি। নূর মাস্টারের কারণেই এই ভাবে আমরা আরো অনেক কাজ করে দিয়েছি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভোকেল ,আমরা অনেক সময় বিরক্ত হলেও তিনি কথা বন্ধ করতেন না। বলতেন রাখেনতো, একটু রাগ করবেনতো বুঝি কিন্তু জনগণের কথা না বললে না হয়। শমশেরনগর থেকে এয়ারপোর্ট ঘেঁষে যে রাস্তাটি পতন উষার বাজার হয়ে রাজনগর গিয়েছে সে রাস্তা পাকা করার ব্যাপারে নূর মাস্টার আমাকে বলেছিলেন ,শহীদ ভাই এই রাস্তাটি পাকা করণ না হলে আমারা পতন উষার বাসীর মুখ উজ্জ্বল হয় না। মনে পড়ছে, তার বাড়িতে আমাকে বলেছিলেন শহীদ ভাই- আহমদ নগর মাদ্রাসা বেয়ে রাজদীঘির পার বাজার ভেদ করে যে রাস্তাটি বৃন্দাবনপুর হয়ে কামারচাক ইউনিয়নে সংযুক্ত হয়েছে আপনার সাথে পরামর্শ না করে আমার বাড়িতে আপনার সমর্থনে এক বিরাট কর্মী সমাবেশে আপনার ভাইদের নিয়ে বৃহৎত্তর বৃন্দাবনপুর এলাকার জনসাধারণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে এই রাস্তাটি আমাদের নেতা শহীদ ভাই পাকা করে দিবেন। কিভাবে কাজ করিয়ে নিতে হয় তিনি জানতেন। আমি এই অঞ্চলের বৃহত্তর স্বার্থে রাস্তাটি করে দিয়েছি। নূর মাস্টারের সাথে আমাদের দলের সবাই একই যোগে কাজ করতেন। এখানে আওয়ামী লীগ বিএনপি যত পাটি আছে সবাইকে নিয়ে তিনি কাজ করতেন এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে। বলতেন, আমরা পতন উষার বাসি যেভাবে দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে থাকি সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আসুন সবাই মিলে সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করি। আজকে নূর মাস্টার নেই, তাঁহার অনুপস্থিতে পতন উষার ইউনিয়নে সরব কণ্ঠে কথা বলার লোক অনেকেই আছে তবে নূর মাস্টারের মত সাহস করে কথা বলতে অনেকেই উৎসাহবোধ করবেন না। পতন ঊষার ইউনিয়নের উজ্জ্বল নক্ষত্রদের মধ্যে তিনি একজন। 

তার সুযোগ্য ছেলেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত, দেশে বিদেশে তারা প্রতিষ্টিত। আমি লন্ডনে গেলে নুর মাস্টারের ছেলেদের আতিথিয়তা, আমার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ভালবাসা দায়িত্ববোধ সেটা আমাকে পীড়া দিচ্ছে। আমি লন্ডন থেকে ফিরে সময়ক্ষনে যখন তাদের বাড়ি ভিজিট করতাম তখন তার ছেলে মেয়েদের গল্প করতাম- তিনি অনেক খুশী হতেন। আমি নিজেই অসুস্থ ছিলাম। নুর মাস্টার তাঁহার ছেলেদের মাধ্যমে প্রতিদিন আমার খবর নিয়েছেন। তিনির বড় ছেলে নজরুলকে বলেছেন, আমাকে বলার জন্য আমি যাতে একটু নিরাপদ থাকি। আমি করোনা কালীন সময়ে এলাকায় কাজ করছি। তিনির ছেলে প্রিয় নজরুল আমাকে প্রতিদিনই ফোন দিয়ে বলেছে স্যার আপনার বয়স হয়েছে, একটা খারাপ সময় যাচ্ছে, চেষ্টা করুন ঢাকায় নিরাপদে থাকার। নূর মাস্টার তিনির ছেলে মেয়েদের ভাল মানুষ হিসাবে রেখে গেছেন -এটাই তার সফলতা। তাঁদের বাবার রাজনৈতিক সহকর্মী ও বন্দু হিসাবে তাঁরা আমাকে পিতৃতুল্য হিসাবে সম্মান করে। তিনির মৃত্যের খবর শুনার পর এই করোনা কালীন সময়ে আমি আমার্ ভাইদের বলেছি তোমরা যাও নূর মাস্টারকে দেখে এসো -যা করণীয় কর, নুর মাস্টারকে আর পাবা না। তিনি ছিলেন আমার আপন ভাইয়ের মত। নুর মাস্টারের মৃত্য পর দেশে বিদেশ থেকে আমাকে অনেকেই ফোন দিয়েছেন। দেশে বিদেশে মানুষের সাথে নূর মাস্টার ও তিনির্ পরিবারের একটা ভাল নেটওয়ার্ক আছে। আমাকে অনেকেই লন্ডন আমেরিকা মিডিলিস্ট থেকে ফোন দিয়ে নুর মাস্টারের খবর নিয়েছেন। এই কবিড ১৯ করোনা কালীন সময়ে নূর মাষ্টার ও তাঁর পরিবার মানুষের কল্যানে পারিবারিক ভাবে দৃশ্যমান কাজ করেছে। এলাকার প্রতিটি দুর্যোগে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আমি নূর মাস্টারকে সাথে নিয়েই নিয়েই  এই করোনা কালীন সময়ে দরিদ্র মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছি। তাঁদের পারিবারিক ট্রাষ্ট "আব্দুন নূর নুরজাহান চৌধরী কল্যাণ ট্রাস্টের, মাধ্যেম বছরের পর বছর তারা মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। দেশে বিদেশে তাদের একটা চমৎকার নেটওয়ার্ক রয়েছে। নূর মাস্টারের ছেলে মেয়েদের পারিবারিক শিক্ষা চমৎকার। তাঁরা তাদের বাবার নীতি আদর্শ শিক্ষাকে ধারণ করেছে। যা তাদের সামাজিক মানবিক কার্য্ক্রমে চোখে পড়ে। আমি দোয়া করি নূর মাস্টারের অনুপস্থিতি তার পরিবার যেন এই শোক সহিবার পারে।
 
নূর মাস্টার ছিলেন কাজের মানুষ। জাতীয় নির্বাচন আমাদের দলীয় কার্যক্রমে তিনির্র ভূমিকা আজ স্মৃতিপটে। এই বয়সে তিনির মিছিল মিটিং দলের পক্ষে আমার পক্ষে গণসংযোগ আজ স্মৃতিপঠে। তিনি চেলেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজ করতেন। স্বার্থ সংশ্লিষ্টতার উর্ধে নূর মাস্টারের সাথে আমার ও আমার পরিবারিক সম্পর্ক ছিল নীবিড়। আজ তিনি নেই কষ্ট অনুভব করছি। তিনির ছেলে নজরুলকে নির্দেশ দিয়ে বলছি, যে কোন প্রয়োজনে আমার সাথে যোযোযোগ অব্যাহত রাখার জন্য। যখন যা প্রয়োজন তোমাদের বাবাকে যেভাবে বিরক্ত করতে আমাকেও সে ভাবে বিরক্ত করলে আমি খুশি হব। ইতিমধ্যে নুর মাস্টারকে নিয়ে একটি টিভি চ্যানেলে স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা হয়েছে যেখানে আমি নিজে ছিলাম। দেশ বিদেশ পতন উষার কমলগঞ্জ মৌলভীবাজারের অনেক ছিলেন আলোচনায়। সকলের প্রাণবন্ত কথা বার্তা স্মৃতিচারণ নূর মাস্টারকে চোখের সামনে নিয়ে এসেছিল। পতন ঊষার ইউনিয়ন বাসী তাঁকে নিয়ে সার্বজনীন নাগরিক শোকসভা পরিষদ গঠন করেছে। ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমদ বাবু, সিকান্দর আলী আমার সাথে কথা বলেছেন। দেশে বিদেশ থেকে আরো অনেকই কথা বলেছেন। আমি সবাইকে কথা দিয়েছি স্ব-শরীরে নূর মাস্টারের স্বরণ সভায় আমি উপস্থিত থাকবো।

আব্দুন নূর মাস্টার শিক্ষার প্রচার প্রসার দান অনুদান সমাজের কল্যাণ মঙ্গল নিহিত প্রতিটি কাজে নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন সম্মুখ সারিতে। এ যাবৎ দৃশ্যমান অনেক কাজ করেছেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তার জীবনদশার এলাকায় প্রতিষ্টিত হয়েছে তারই নামে" আব্দুন নূর নূর জাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্টানের সামগ্রিক উন্নয়নে আমার পক্ষ থেকে যা করণীয় তাঁর ব্যতয় হবেনা। ইতি মধ্যে একটি বহুতল ভবন অনুমোদন হয়েছে। এই অঞ্চলের শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সকল শিক্ষা প্রতিস্টানের প্রতি আমার সুদৃষ্টি রয়েছে। তাঁদের পারিবারিক ট্রাস্ট "আব্দুন নূর নূর জাহান চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বছরের পর বছর তাঁহারা মানবিক কাজ করে যাচ্ছে পুরো জেলায়। প্রতিটি কাজে তাঁরা আমার পরামর্শ আসা করেন, আমি তাদের উৎসাহ দিতাম। পতন উষার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন আজীবন দাতা সদস্য সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্টানে তাঁর দান অনুদান আছ। দেশ-সমাজের জন্য তাঁর  আরও অনেক কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অদ্য ২৫/০৮/২০২০ ইং তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন পরপারে । শিক্ষানুরাগী আব্দুন আব্দুন নূর মাস্টারের আকর্ষিক চলে যাওয়া কমিনিটির জন্য ও অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁহার মৃত্যুর পর তার বিশাল জানাযা- ই প্রমান করে তাঁর বেঁচে থাকার কতো প্রয়োজন ছিল।   
  
যা বলে শেষ করতে চাই, নূর শব্দের অর্থ আলো উজ্জ্বল, জীবনদশায় তিনি ছিলেন উজ্জ্বল। মৃত্যের পরেও তার করব যেন আল্লাহ শান্তিতে উজ্জ্বল করে দেন এই হোক আজকের প্রার্থনা।

লেখক: উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদ এমপি , সভাপতি ,অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি জাতীয় সংসদ, সাবেক চিপ হুইপ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ)।

নোট: লেখাটি সংগৃহীত মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সমাজ সেবক সালিশ বিচারক প্রয়াত আব্দুন নূর মাষ্টার নাগরিক শোকসভা, শোক স্মারক “রোদন” থেকে।

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন