মৌলভীবাজারে বৃদ্ধ মা'কে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলো ছেলে- আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বললেন ওসি মোঃ ইয়াছিনুল হক

responsive

বিশেষ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউপি'র বেকামুড়ার পাঠানতুলা এলাকায় আপন মা'কে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছে ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ নভেম্বর শনিবার অনুমান সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। 

থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৫নং আখাইলকুড়া ইউপি'র বেকামুড়া পাঠানতুলা এলাকার মৃত রহমত মিয়ার স্ত্রী বানেছা বেগম (৭০) এর উপর ছেলে তরাজুল ইসলাম দা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

থানায় অভিযোগ সূত্রে ও  মৃত রহমত মিয়ার ছেলে বাদী মোঃ ময়নুল মিয়া (৩৪) জানান,  ১৪ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে তার ভাই জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তিনি দেশে আসার পূর্ব থেকে গুরুতর আহত মা বানেছা বেগমের কাছে থেকে থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ্যিত ১নং বিবাদী তরাজুল ইসলাম (৩৫)  সুকৌশলে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে আহত মায়ের কাছ থেকে ১নং বিবাদী সাক্ষী সাজিয়া অপর ভাই প্রবাসী রাকিবুল ইসলাম নানুর নামে একটি হেবা দলিল জায়গা রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন।

পরবর্তীতে ১নং সাক্ষী ও আহত মা বানেছা বেগম জায়গা রেজিস্ট্রি করিয়ে নেয়ার কথা জানতে পারলে ১নং বিবাদী তরাজুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম নানু মিলে হেবা দলিল করে। এসব বিষয় জেনে গুরুতর আহত মা বানেছা বেগম উক্ত হেবা দলিলের নকল উঠিয়ে দলিলটি বাতিলের জন্য সিনিয়র সহকারী জজ আদালত মৌলভীবাজারে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং - স্বত্ব ২৯/১৯ উক্ত মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

এরই সূত্র ধরে ১নং বিবাদী তরাজুল ইসলাম (৩৪) পিতা- মৃত রহমত মিয়া, ২।  রায়না বেগম (২৪) স্বামী - সিতার মিয়া, ৩।সিতার মিয়া (৫০) , পিতা- মৃত রহমত মিয়া ৪। দিলাল মিয়া (২৩) ৫। মুন্না মিয়া (২১) উভয় পিতা- সিতার মিয়া কারনে অকারনে ১নং সাক্ষী আহত মা বানেছা বেগম'কে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।

এসব গালাগালিতে প্রতিবাদ করলে গুরুতর আহত মা'কে মারধোর করতো এবং বিবাদীগন বাড়ির গাছপালা কেটে নিয়ে যেত। অসহায় মা একা হওয়ায় নিরবে সহ্য করতে থাকেন। এরই মধ্যে আহত মায়ের ছোট ছেলে বাদী ময়নুল মিয়া প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসলে বিবাদীগন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে চলে এবং বাদী ময়নুল মিয়াকেও মারার জন্য হুমকি ধামকি দিতে থাকে।

এসব বিষয় নিয়ে অদ্য বাদীর বাড়িতে পঞ্চায়েত জরো করার জন্য দাওয়াত করলে উক্ত বিষয় জেনে ১নং বিবাদী তরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য বিবাদীগন  মিলে বাদী ময়নুল ইসলাম ও তার মা আহত বানেছা বেগম'কে অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করলে বাদী এসব না গালাগালি না করার জন্য বললে ২নং বিবাদী রায়না বেগম  ও ৩নং বিবাদী সিতার মিয়া'র হুকুমে ও নেতৃত্বে ১-৫ নং বিবাদীগন মিলে দা,  লাঠি, জি আই পাইপ, লোহার রড ইত্যাদি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও ঘেরাও করে আক্রমণ চালিয়ে  বিবাদী রায়না বেগম, মুন্না মিয়া, দিলাল মিয়া বাদী ময়নুল মিয়া ও তার মা বানেছা বেগম(৮০) উপর হামলা চালায়।

৮০ বছরের বৃদ্ধ মা বানেছা বেগমের চুলের মুঠি ও পরনের কাপড়ে ধরে টানাটানি করে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি, লাথি মোড়কর দিয়ে মারপিট করতে থাকলে বাদী ময়নুল মিয়া মা'কে বিবাদীগনের কবল থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে ৩নং বিবাদী সিতার মিয়ার হুকুমে ১নং বিবাদী তরাজুল ইসলামের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ৮০ বছরের বৃদ্ধ মা বানেছা বেগম'কে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ডান পাশে ছেদ মারে এবং রক্তাক্ত জখম করে ।

অতিরিক্ত রক্ষ ক্ষরণের কারণে ৮০ বছরের বৃদ্ধ মা অজ্ঞান হয়ে পরে গেলে বাদী ময়নুল মিয়াকে কিল ঘুষি লাথ মোড়কর দিয়ে মারধোর করতে থাকলে বাদীর আত্ম চিৎকারে অভিযোগে উল্লেখ্যিত সাক্ষীগন ছিটে আসলে বাদী ও মা বানেছা বেগমকে ফেলে পালিয়ে যায় ও বাদীর কাছে থাকা ১লক্ষ টাকার বাড়ির খরছের টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়  । সাক্ষীগন তাদের উদ্ধার করেন এবং মায়ের অবস্থা আআশংকাজনক হওয়ায় সাক্ষীগনের সহায়তায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর জখম পরীক্ষা করেন এবং মাথার ডান পাশে জখমী স্থানে ৮টি সেলাই করেন। এবং সদর হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ২০ নং বেডে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এরই মধ্যে বিবাদীগন বাদী ময়নুল মিয়াকে হুমকি ধামকি দিয়ে চলেছেন এবং নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়। 

আপন ৮০ বছরের বৃদ্ধ মা ও ভাইয়ের উপর হামলার ঘটনায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়াছিনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মায়ের উপর এ ধরনের ন্যাকারজনক ঘটনা মোটেও কাম্য নয়, এটা অত্যন্ত জঘন্যতম ঘৃণিত কাজ করেছে । অভিযোগ এসেছে এরই প্রেক্ষিতে যথাযথ  আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন