তবু শ্রীলঙ্কায় থেমে নেই জ্বালাও-পোড়াও

responsive

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক//

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ভয়াবহ সংকটে পতিত শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির নেতা রানিল বিক্রমাসিংহেকে। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকশা নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেছেন। তবে এতে দেশটির অচলাবস্থা কাটছে না। বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে রানিল বিক্রমাসিংহকে নিয়োগ করায় তিনি রাজাপাকশা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেবেন সে সম্ভাবনা বেশি। রাজপাকশারা অনুরোধ করলে তাদের নিরাপদে দেশত্যাগের ব্যবস্থাও তিনি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে বিরোধীদের মধ্যে বিক্রমাসিংহের ব্যাপক সমর্থন নেই এবং জনসাধারণও তাকে খুব একটা সমর্থন করে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিষেক হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় খুব একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে না।

বিক্রমাসিংহে কয়েক দশক ধরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে জড়িত আছেন। এটা প্রধানমন্ত্রী পদে তার ষষ্ঠবার নিয়োগ। তবে কোনোবারই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারেননি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট রাজাপাকশার পদত্যাগের দাবিতে চাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং এই দাবিতে শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। যদিও তিনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সংসদে এবং নতুন মন্ত্রিসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাবেন এমন যোগ্য ব্যক্তিকে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

রানিল বিক্রমাসিংহেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার খবরকে বেশিরভাগই অবিশ্বাস্য এবং হতাশাজনক বলে মনে করছেন।

বিক্রমাসিংহে একসময় রাজনীতিতে চতুর খেলোয়াড় ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে তার প্রতি জনসমর্থন দ্রুত কমেছে। একসময় ক্ষমতাসীন তার ইউনাইটেড ন্যাশানাল পার্টি গত নির্বাচনে মাত্র একটি সংসদীয় আসন পেতে সক্ষম হয়েছে। ফলে সংসদে তিনিই একমাত্র তার দলের প্রতিনিধি।

তার রাজনৈতিক ভরাডুবির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয় বিরোধী দলের সদস্য হওয়ার পরেও রাজাপাকশা পরিবারের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা।

অনেকে মনে করেন, রাজাপাকশা ভাইরা যখন ২০১৫ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা হারান তখন বিক্রমাসিংহে তাদের আড়ালে থাকতে সাহায্য করেছিলেন। এখন আবার প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ করাকে দেখা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকশার পদত্যাগের যে দাবিতে জনগণ তাকে অগ্রাহ্য করে সেটা ঠেকিয়ে রাখার একটা প্রচেষ্টা হিসেবে।

অনেকেই মনে করছেন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসাধারণ যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছে এই নিয়োগ তা বন্ধ করতে উদ্ধত একটা জবাব।

রানিল বিক্রমেসিংহের নিয়োগের পরপই লেখক ও সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ফিডেল ফার্নান্ডো এক টুইট বার্তায় বলেন এই পদক্ষেপ ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পচনের পরিচয়।’

এদিকে শ্রীলংকায় দেশজুড়ে কারফিউ বলবৎ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও বিকেলে তা পুর্নবহাল করা হয়েছে। দোকানপাট, ব্যবসা বাণিজ্য ও অফিস বন্ধ রয়েছে।

দেশটিতে খাদ্য ও জ্বালানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের চরম অভাব ও দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। কারফিউ শিথিল করার আগেই কলম্বোর বাসিন্দাদের পেট্রল স্টেশনের বাইরে লাইন দিতে দেখা যায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন, এরকম গুজবের মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার আদালত মাহিন্দা রাজাপাকশা, তার ছেলে এবং পনের জন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তাদের দেশত্যাগ নিয়ে এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল বুধবার রাতে। কিন্তু কলম্বোর ভারতীয় হাইকমিশন বলছে, খবরটি সত্য নয়। পদত্যাগের পরপরই মাহিন্দা রাজাপাকশা ত্রিঙ্কোমালির একটি নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নেন।

শ্রীলংকার সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, রাজাপাকশা এখনও সেই নৌ ঘাঁটিতেই আছেন। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারেন, এমন আশংকায় অনেক বিক্ষোভকারী সেই নৌ ঘাঁটিতে জড়ো হয়ে আছে।

responsive

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন